নিজস্ব প্রতিবেদক
তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে কুমিল্লার মানুষ। দিনের পর দিন বিদ্যুৎবিভ্রাটে জনজীবন হয়ে উঠেছে বিপর্যস্ত। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও।
নগরীতে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। তবে গ্রামীণ এলাকাগুলোয় এই সময়সীমা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এতে করে গ্রামাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি খাতও। সেচ পাম্প চালাতে না পারায় জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে
গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লা নগরীতে ঘুরে দেখা গেছে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদে কাজ করতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। বাইরে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ কেউ ছায়া খুঁজছেন, কেউ পান করছেন ঠান্ডা শরবত। কেউবা সামান্য স্বস্তির আশায় পুকুরে নেমে শরীর ভিজাচ্ছেন।
জীবিকার তাগিদে তীব্র রোদের মধ্যে রিকশা চালাচ্ছেন রংপুর থেকে কুমিল্লা নগরীতে আসা রহিম মিয়া। ছয় সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। রহিম মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়ছে। একবেলা রিকশা চালালে আরেক বেলা চালাতে পারি না। শরীর সইতে চায় না। এই মাসে বাসাভাড়া, খাওয়া-দাওয়া করে বাড়িতে কিছুই পাঠাতে পারব না।
গ্রামীণ এলাকায় দিনের সিংহভাগ সময় বিদ্যুৎহীন থাকছেন মানুষ। অনেক এলাকায় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ৮ ঘণ্টায় একবারও বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। অন্য সময়ও এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা থাকছে না। লোডশেডিংয়ের কারণে আইপিএস চার্জ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না, কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। এমতাবস্থায় বেশি বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। রাতের বেলায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরো বেশি।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের এসএসসি পরীক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, আগে আমরা টানা কয়েক ঘণ্টা পড়াশোনা করলেও ক্লান্তি আসত না। এখন তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে দুই ঘণ্টাও পড়তে পারি না। সারা দিন তো বিদ্যুৎ থাকেই না, রাতেও থাকে না বেশির ভাগ সময়। ঠিকমতো ঘুম হয় না, পড়াশোনাও হয় না। আমাদের পড়াশোনার কথা বিবেচনা করে হলেও লোডশেডিং কমানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি।